কন্টেন্টে যান
ডাক্তার লিস্টিফাই — DrListify
হোম /   ব্লগ /   তথ্য ও দিক নির্দেশনা  / আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি: জয়েন্টের চিকিৎসায় আধুনিক ও সহজ সমাধান

আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি: জয়েন্টের চিকিৎসায় আধুনিক ও সহজ সমাধান

হাড্ডি বা জয়েন্টের সমস্যায় বর্তমানে আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি (Arthroscopic Surgery) একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কার্যকর পদ্ধতি। আগের মতো বড় করে কেটে সার্জারি করার দিন এখন ফুরিয়ে আসছে। আধুনিক এই পদ্ধতিতে খুব ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে জয়েন্টের জটিল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

নিচে রোগীদের সহজভাবে বোঝার জন্য আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি কী?

‘আর্থ্রোস্কোপি’ শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে— ‘আর্থ্রো’ মানে জয়েন্ট বা সন্ধি এবং ‘স্কোপিন’ মানে দেখা। সহজ কথায়, এটি এমন একটি পদ্ধতি যেখানে একটি চিকন নলের মাথায় ক্যামেরা লাগিয়ে (যাকে আর্থ্রোস্কোপ বলে) জয়েন্টের ভেতরের অংশ বড় স্ক্রিনে দেখা হয় এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।

একে অনেকে ‘কি-হোল সার্জারি’ বা ল্যাপারোস্কোপিক জয়েন্ট সার্জারি বলেও ডাকেন।


কেন এই সার্জারি করা হয়?

জয়েন্টের ভেতরে এমন কিছু সমস্যা থাকে যা সাধারণ এক্স-রে বা সবসময় এমআরআই (MRI) দিয়ে পুরোপুরি বোঝা বা ঠিক করা যায় না। মূলত নিচের সমস্যাগুলোতে এই সার্জারি করা হয়:

  • হাঁটু (Knee): লিগামেন্ট টিয়ার (যেমন ACL/PCL ইনজুরি), মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়া বা হাঁটুর ভেতরে হাড়ের ছোট টুকরো আটকে যাওয়া।
  • কাঁধ (Shoulder): ফ্রোজেন শোল্ডার, রোটেটর কাফ টিয়ার বা বারবার কাঁধের হাড় সরে যাওয়া (Dislocation)।
  • গোড়ালি ও কব্জি: জয়েন্টের ভেতরে প্রদাহ বা অতিরিক্ত হাড় বৃদ্ধি হলে।
  • আর্থ্রাইটিস: জয়েন্টের তরল পরিষ্কার করতে বা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু সরাতে।

এটি কীভাবে করা হয়? (ধাপসমূহ)

একজন সার্জন সাধারণত নিচের প্রক্রিয়ায় এই সার্জারি সম্পন্ন করেন:

  1. অ্যানেস্থেশিয়া: রোগীকে অজ্ঞান করে বা শরীরের নির্দিষ্ট অংশ অবশ করে (Spinal/Local Anesthesia) অপারেশন শুরু হয়।
  2. ছোট ছিদ্র করা: জয়েন্টের পাশে মাত্র ০.৫ থেকে ১ সেন্টিমিটারের মতো ছোট দুটি বা তিনটি ছিদ্র করা হয়।
  3. ক্যামেরা প্রবেশ: একটি ছিদ্র দিয়ে আর্থ্রোস্কোপ (ক্যামেরা) প্রবেশ করানো হয়, যা জয়েন্টের ভেতরের পরিষ্কার ছবি মনিটরে দেখায়।
  4. চিকিৎসা: অন্য ছিদ্রগুলো দিয়ে বিশেষ ধরনের ছোট যন্ত্রপাতি ঢুকিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত বা অপসারণ করা হয়।
  5. শেষ ধাপ: কাজ শেষ হলে যন্ত্রপাতি বের করে নেওয়া হয় এবং ছিদ্রগুলো সেলাই বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির সুবিধা কী কী?

প্রথাগত ওপেন সার্জারির তুলনায় এর অনেক সুবিধা রয়েছে:

  • রক্তপাত কম: বড় করে কাটা হয় না বলে রক্তক্ষরণ খুব সামান্য হয়।
  • ব্যথা কম: অপারেশনের পর ব্যথানাশক ওষুধের প্রয়োজন খুব কম পড়ে।
  • দ্রুত সুস্থতা: রোগী সাধারণত ওই দিনই বা পরের দিন বাড়ি ফিরতে পারেন।
  • দাগ থাকে না: ছোট ছিদ্র হওয়ার কারণে চামড়ায় বড় কোনো দাগ থাকে না।
  • ইনফেকশনের ঝুঁকি কম: যেহেতু ভেতরে বাতাস বা বাইরের ময়লা ঢোকার সুযোগ পায় না, তাই সংক্রমণের ভয় কম থাকে।

সার্জারির পর যা মাথায় রাখা জরুরি

অপারেশন সফল হওয়ার পর পূর্ণ সুস্থতার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়:

  • ফিজিওথেরাপি: সার্জারির পর জয়েন্ট সচল করতে অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শে ব্যায়াম করা বাধ্যতামূলক।
  • বিশ্রাম: ডাক্তার যতদিন বলবেন ততদিন জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না।
  • বরফ দেওয়া: ফোলা কমাতে অপারেশনের জায়গায় নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বরফ সেঁক দিতে হতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার জয়েন্টের ব্যথা বা সমস্যার ধরন বুঝে একজন অর্থোপেডিক সার্জন ঠিক করবেন আপনার জন্য আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি প্রয়োজন কি না। বাংলাদেশে এখন সরকারি ও বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে এই আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে।


আপনার যদি কোনো লিগামেন্ট ইনজুরি বা দীর্ঘদিনের জয়েন্ট পেইন থাকে, তবে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

Rate this post